কথায় আছে ১২ মাসে ১৩ পার্বণ, কারন সাধারণ মানুষ উৎসব প্রেমী। আর উৎসব মানেই নতুন কিছু। আর তাতেই গাঁ ভাষিয়ে দেন বাংলার আপামর জনসাধারণ। হাতে মাত্র আর ১ দিন বাকি। আর বাংলা বছরের শেষ দিনে বাংলার মানুষ মেতে উঠবে চৈত্র সংক্রান্তিতে। কেউ কেউ আবার এই চৈত্র সংক্রান্তিকে বলে থাকেন ভাই ছাতু উৎসব। প্রতিটি বাড়িতেই মা বোনেরা ভক্তি-নিষ্টা সহকারে এই উৎসব পালন করে থাকে। এই উৎসবের বিভিন্ন সামগ্রীর মধ্যে অন্যতম সামগ্রী হচ্ছে দুই প্রকারের ছাতু। যা তৈরী করা হয় যব ও ছোলা কিংবা বুট থেকে। আর তাইতো ছোলা কিংবা বুটের ছাতু বানাতে ব্যস্ত কারিগররা। আগামী ১৪ই এপ্রিল অর্থাৎ ৩০ শে চৈত্র, চৈত্র সংক্রান্তি কিংবা ভাই ছাতু উৎসব। আর এই উৎসবকে সামনে রেখে এমনই ব্যস্ততা দেখা গেল উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের পৌর এলাকার ৫ নং ওয়ার্ডের শান্তিকলোনী এলাকায়। এই ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি পরিবারের মহিলারা নিজেদের সংসারের কাজ কর্ম সেরে একটু বেশি মুনাফা লাভের আশায় চৈত্র মাশের শেষ সপ্তাহের শুরু থেকে ছাতু বানানোর পেশার সাথে যুক্ত হন। বছরে অন্যান সময়ে বিভিন্ন সামগ্রীর জিনিস পত্র তৈরী করলেও চৈত্র সংক্রান্তি এবং ভাই ছাতু উপলক্ষ্যে জব ও বুটের ছাতু বানাতে শুরু করেন তারা।
এলাকার মহিলা জ্যোৎস্না সরকার ও খুদন বর্মন নামে ওই মহিলা কারিগররা জানান, তারা ধনকৈইল হাট থেকে ২৬ টাকা কেজি জব ও ৫০টাকা করে বুট কিনে নিয়ে আসেন। সেগুলি বাড়িতে পরিস্কার করে বুটকে আগুনের মধ্যে বালিতে ভেজে নিয়ে গুড়া করে ছাতু তৈরী করেন। কিছু ক্ষেত্রে ঢেকিতে গুড়া করার পাশাপাশি কখোন আবার মেশিনেও গুড়া করা হয়। যদিও মিলের তুলনায় ঢেকিতে গুড়া করা ছাতু বেশি সুস্বাদু হয়।
তাইতো সময় নষ্ট না করে ইতিমধ্যেই কালিয়াগঞ্জের মহেন্দ্রগঞ্জ বাজার ও তারা বাজারে ছাতু বিক্রেতারা নিজেদের পসরা সাজিয়ে বসেছে। হাতে যে সময় নাই বল্লেই চলে।